HearT HackeR

《 H.S.C--ICT 》 Cloud Computing // ক্লাউড কম্পিউটিং





ক্লাউড কম্পিউটিং

《 H.S.C--ICT 》




আমাদের সবার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে এরকম বন্ধু থাকে যার কাজই হচ্ছে সারাদিন বিভিন্ন ভঙ্গিতে  ছবি তুলে সেগুলো ফেসবুকে আপলোড করা। আবার আমরাও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ফটো তুলে ফেসবুকে আপলোড করি। আমাদের আপলোড করা এসব ফটো কিন্তু হারিয়ে যায় না।
থেকে যায় বছরের পর বছর। আমরা চাইলে প্রোফাইলে ঢুকে আমাদের আপলোড করা ফটোগুলো দেখতে পারি। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছ কি, আমাদের আপলোড করা এসব ফটোগুলো কোথায় জমা হয়?
কিংবা গুগল ড্রাইভে তোমরা যারা ফটো আপলোড দাও সেই ফটোগুলোই বা কোথায় জমা থাকে?
আসলে আমরা ব্যবহারকারীরা কেউই জানি না, এই ফটোগুলো কোন দেশের কম্পিউটারে জমা থাকে কিংবা কিভাবে ফটোগুলো প্রসেস করা হয়। কারণ বিভিন্ন দেশে এই সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানীগুলোর বিপুল সংখ্যক সার্ভার রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা অসংখ্য ক্লায়েন্টকে এই সার্ভিস প্রদান করছে।
এছাড়া আরও এমন কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা অর্থের বিনিময়ে ইন্টারনেটে মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস প্রদান করে থাকে যেমন – Website registration, website hosting ইত্যাদি।
এসবই হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং(Cloud Computing) এর উদাহরণ । ক্লাউড কে তোমরা এভাবে কল্পনা করতে পারো, ধরে নাও একটা ডাটা সেন্টার যেখানে হাজার হাজার সার্ভারের মাধ্যমে ক্লায়েন্টের অজস্র সমস্যার সমাধান করা যায়।
মনে রাখবে, ক্লাউড কম্পিউটিং কোন টেকনোলজি নয়, বরং এটি একটি ব্যবসায়িক মডেল।
আমেরিকার ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং এর সংজ্ঞা অনুসারে,
বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার রিসোর্স যেমন – নেটওয়ার্ক , সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার ও সার্ভিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্রেতার সুবিধা অনুসারে, চাহিবামাত্র ও চাহিদা অনুসারে, সহজে ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান বা ভাড়া দেয়ার সিস্টেমকে বলা হয় ক্লাউড কম্পিউটিং।


ক্লাউড কম্পিউটিং এর বৈশিষ্ট্য

ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলোঃ
ফ্লেক্সিবিলিটি মানে সবার সাথে খাপ খাওয়াতে পারে এমন। ক্লাউড কম্পিউটিং এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি ছোট বা বড় যেকোন ক্রেতার মেটায়। ক্রেতা যত চাইবে সার্ভিসদাতা সেই অনুযায়ী সার্ভিস দিতে পারবে।
On Demand মানে যখন চাইবে তখন দেওয়া। ক্রেতা যখন চাইবে সার্ভিসদাতা তখনই সার্ভিস দিবে।
PAY AS YOU GO মানে হচ্ছে ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস চার্জ দেওয়া লাগবে না। ক্রেতা যতটুকু ব্যবহার করবে শুধু ততটুকুই পরিশোধ করবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদ


ক্লাউড কম্পিউটিং কে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়ঃ

ধরো তোমার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এখন তুমি নিজেই একটি ক্লাউড অবকাঠামো তৈরী করে নিজেই সেটা পরিচালনা করতে চাও। তাহলে এ ধরনের ক্লাউডকে বলে প্রাইভেট ক্লাউড।  এ ধরনের ক্লাউড একটু বেশি ব্যয়বহুল।

তোমরা তো জানোই, পাবলিক মানেই সকলের জন্য উন্মুক্ত!
পাবলিক ক্লাউডের ক্ষেত্রেও জিনিসটা একই রকম। পাবলিক ক্লাউড হচ্ছে সকলের জন্য উন্মুক্ত ক্লাউড। এই ক্লাউডের সার্ভিসগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। যেমন পাবলিক ক্লাউডের উদাহরণ হচ্ছে  Microsoft , Amazon, Google ইত্যাদি। এদের নিজস্ব ডেটা সেন্টার আছে যেখানে ডেটা জমা থাকে এবং প্রয়োজনে প্রসেস করা যায়।

হাইব্রিড মানেই হচ্ছে দুই বা ততোধিকের সংমিশ্রণ । তাই হাইব্রিড ক্লাউড বলতে দুই বা ততোধিক (যেমন - প্রাইভেট, পাবলিক ইত্যাদি) এর সংমিশ্রণকে বোঝায়। হাইব্রিড ক্লাউডে যেটা হয় সেটা হলো দুই বা ততোধিক ক্লাউডের মিশ্রণের ফলে এর ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও ক্লাউড কম্পিউটিং এর আরও কিছু প্রকারভেদ আছে। যেমনঃ কমিউনিটি ক্লাউড(Community cloud), ডিস্ট্রিবিউটেড ক্লাউড( Distributed cloud), মাল্টিক্লাউড (Multicloud) , ইন্টারক্লাউড( Intercloud) ।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সার্ভিস মডেল


আমরা বুঝেছি যে ক্লাউড কম্পিউটিং এ ক্লায়েন্টরা বিভিন্ন সার্ভিস গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন সার্ভিসদাতা সে সার্ভিস দেয়। এখন সার্ভিস কিরকম হবে তার উপর ভিত্তি করে তিন ধরনের মডেল তৈরী করা হয়েছে। মডেলগুলো বোঝার জন্য একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ধরো তোমার বন্ধুর সামনে জন্মদিন। এখন তোমার বন্ধু চায় জন্মদিনের অনুষ্ঠান খুব সুন্দর হোক এবং সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পড়েছে তোমার ঘাড়ে।
তো তুমি কী করতে পারো?
অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রথমে একটা জায়গা প্রয়োজন। হতে পারে সেটা কোন কমিউনিটি সেন্টার। তারপর প্রয়োজন ডেকোরেশন সম্পাদনের জন্য কিছু লোক। আর সবশেষে খাবার পরিবেশন করার জন্য লোক তো লাগবেই।
এখন ধরো কমিউনিটি সেন্টার কতৃপক্ষ তোমাকে তিন ধরনের প্যাকেজ দেয়। প্রথম প্যাকেজে আছে তুমি শুধু কমিউনিটি সেন্টার পাবে। বাকি কাজগুলো তোমাকে নিজেই করে নিতে হবে।
দ্বিতীয় প্যাকেজে তুমি কমিউনিটি সেন্টারের সাথে ডেকোরেশনের লোক পাবে।
আর তৃতীয় প্যাকেজে তুমি সবগুলোই পাবে।  
ক্লাউডেও কিন্তু মডেলগুলো  হচ্ছে এরকম। চলো এবার দেখে নিই মডেলগুলোঃ
Infrastructure মানে হচ্ছে অবকাঠামো। এই মডেলে আসলে অবকাঠামো ভাড়া দেয়া হয় তাই এর নাম Infrastructure as a Service. এটাকে তুমি জন্মদিনের অনুষ্ঠান  আয়োজনের সেই প্রথম প্যাকেজের সাথে তুলনা করতে পারো। প্রথম প্যাকেজে যেমন কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া দেয়া হয়েছিল এই মডেলেও তেমনি অবকাঠামো ভাড়া দেয়া হয়। আমাজন এর ইলাস্টিক কম্পিউটিং ক্লাউড (EC2) এরকম একটি মডেল। এই মডেলে ভার্চুয়াল মেশিন ভাড়া দেয়া হয়।
ভার্চুয়াল মেশিন একটা আলাদা কম্পিউটারের মতই কাজ করে কিন্তু এটা ভার্চুয়াল অর্থাৎ বাস্তবে কোন হার্ডওয়্যার নেই।
ইলাস্টিক কম্পিউটিং ক্লাউড (EC2) সম্পর্কে আরো জানতেঃ

এই মডেলে প্লাটফর্ম ভাড়া দেয়া হয়। যেমনঃ অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ, ওয়েব সার্ভার ইত্যাদি। ধরো তুমি একটা সফটওয়্যার বানাতে চাও যার জন্য ডেটাবেজ প্রয়োজন। তো তুমি চাইলে এখানে থেকে ভাড়া নিয়ে তোমার সফটওয়্যার ডেভলপ করতে পারো। এটাকে তুমি কল্পনা করতে পারো সেই দ্বিতীয় প্যাকেজের সাথে। দ্বিতীয় প্যাকেজে যেমন তুমি কমিউনিটি সেন্টার এবং ডেকোরেশন টিম ভাড়া পেয়েছিলে এখানেও তেমনিভাবে প্লাটফর্ম এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ভাড়া পেয়ে যাবে। আসলে প্লাটফর্ম ভাড়া নিলে ইনফ্রাস্ট্রাকচার এমনিতেই ভাড়া করা হয়ে যায়। কারণ ডেকোরেশন টিম যেমন কমিউনিটি সেন্টার ছাড়া কাজ করতে পারে না তেমনি প্লাটফর্মও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছাড়া কাজ করতে পারে না।
Microsoft এর Azure এবং Google এর App Engine এই মডেলের উদাহরণ ।

Google এর App Engine সম্পর্কে আরো জানতেঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Google_App_Engine
Microsoft এর Azure সম্পর্কে আরো জানতেঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Microsoft_Azure

এই মডেলে সার্ভিসদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লায়েন্টদের বিভিন্ন সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ ব্যবহার করার সু্যোগ দেয়। এটাকে তুমি তুলনা করতে পারো আমাদের সেই তৃতীয় প্যাকেজের সাথে যেখানে তুমি সবগুলো পেয়ে যাবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা ও অসুবিধা




১। ছোট ও প্রাথমিক উদ্যোক্তারা সহজেই ব্যবসা করার সুযোগ পায়।
২। সবসময় ব্যবহার করা যায়।
৩। যেকোন স্থান থেকে সুবিধা ভোগ করা যায়।
৪। কম সংখ্যক জনবল লাগে।
৫। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট হয় এবং সহজেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  
৬। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং লাইসেন্স ফি এর জন্য অধিক অর্থ ব্যয় করতে হয় না।
১। ক্লাউডে আপলোড করা তথ্য কোথায় জমা হলো জানা যায় না।
২। ক্লাউডে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা কম (যেহেতু তথ্য  সার্ভিসদাতার কাছে চলে যাচ্ছে)
৩। তথ্যের উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
৪। ক্লাউডে ব্যবহৃত প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

No comments

Theme images by fpm. Powered by Blogger.